ভারতীয় ট্রাক চালকদের মাধ্যমে দামি মোবাইল চোরাচালান

সোনামসজিদ স্থলবন্দর

লাইভ রিপোর্ট ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:২২ অপরাহ্ণ
ভারতীয় ট্রাক চালকদের মাধ্যমে দামি মোবাইল চোরাচালান

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে পণ্য আমদানির আড়ালে ভারত থেকে চোরাচালান হয়ে আসছে দামি মোবাইল ফোন। এ জন্য ভারতীয় ট্রাক ও ট্রাকের চালকদের ব্যবহার করা হচ্ছে। সীমান্তে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের কড়াকড়ির কারণে বন্দর দিয়ে মোবাইল ফোন চোরাচালান বেড়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। 

বুধবার সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে পাথরের আড়ালে আসা মোবাইল ফোনের একটি চালান জব্দ করে কাষ্টমস। ওই চালানে আইফোনসহ বিভিন্ন দামি ব্র্যান্ডের ৪২টি মোবাইল ফোন ছিল। সোনামসজিদ স্থলবন্দর কাষ্টমসের সহকারী কমিশনার সাব্বির আহমেদ জিসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বুধবার দুপুরে ভারতীয় একটি ট্রাক (নং-WB59C 9575) পাথর নিয়ে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে প্রবেশ করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই ট্রাকে তল্লাশী চালায় কাষ্টমস কর্মকর্তারা। এ সময় ট্রাকের ইঞ্জিনে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৪২ টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের ৮টি আইফোন, স্যামসংয়ের ৫ টি, ওয়ানপ্লাস‘র ১ টি, ভিভো’র ১২টি, রিয়েলমি‘র ৪ টি, রেডমি’র ৩টি, অপ্পো’র ৬টি মোবাইল ফোন রয়েছে। 

সীমান্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মোবাইল ফোন চোরাচালানের জন্য উল্লেখযোগ্য রুট ছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন সীমান্ত। কিন্তু গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর সীমান্তে দুই দেশের বাহিনী কড়াকড়ি অবস্থানে চলে যায়। বিশেষ করে বিএসএফ কঠোরভাবে সীমান্তে চোরাচালান নিয়ন্ত্রন করছে। আর এ জন্য বিকল্প হিসেবে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে এক পণ্যের আড়ালে অথবা ভারতীয় ট্রাক ও ট্রাক চালকদের মাধ্যমে মোবাইল ফোন চোরাচালান হচ্ছে। 

সূত্রগুলো বলছে, সীমান্তে বছরে কয়েক কোটি টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোন চোরাচালান হয়ে আসে। দেশের যে কয়টি সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে মোবাইল ফোন চোরচালান হয় তার মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তগুলো অন্যতম। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের সীমান্তে কড়াকড়ির কারণে এ ব্যবসায় কিছু ধস নেমেছে। চোরাচালানীরা বিকল্প পথে ভারত থেকে মোবাইল ফোন আনার চেষ্টা করছে।   

সোনামসজিদ স্থলবন্দর কাষ্টমসের সহকারী কমিশনার সাব্বির আহমেদ জিসান বলেন, ‘একেবারে নিশ্চিত তথ্য না থাকলে আমরা পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাকে তল্লাশী চালাতে পারি না। কারণ ট্রাকে বিভিন্ন ধরণের পণ্য থাকে, সেগুলোতে তল্লাশী চালানো সময়সাপেক্ষ। আমাদেরও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা আছে। তাই বন্দর দিয়ে এক পণ্যের আড়ালে বা ট্রাক চালকদের মাধ্যমে পণ্য চোরাচালানের সুযোগ থেকেই যায়। 

তিনি আরও বলেন, আমি সম্প্রতি এ বন্দরে যোগদান করেছি। আমি আসার পর প্রথম মোবাইল ফোন জব্দের ঘটনা এটি। তবে আমি শুনেছি আগেও এমন অবৈধ পণ্য জব্দ করেছে কাষ্টমস কর্তৃপক্ষ। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বলেন, সীমান্তে বিজিবিও মাঝে-মধ্যে ভারতীয় ফোনের চালান জব্দ করছে। আমাদের পর্যবেক্ষন হচ্ছে সীমান্তে আগের চেয়ে মোবাইল ফোনের চোরাচালান কমেছে। 

বিজিবি অধিনায়ক বলেন, কাষ্টমস যে চোরাচালন হয়ে আসা মোবাইল ফোন জব্দ করেছে এটা একটা ইতিবাচক দিক। সব কর্তৃপক্ষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে তৎপর হলে চোরাচালান আরও কমবে।

 

Read more — স্থানীয়
← Home