নাচোলে সাপে কেটে মৃত্যুর পরও দুই ঘণ্টা চলল ওঝার ঝাড়ফুঁক

লাইভ রিপোর্ট ৫ অক্টোবর ২০২৫, ১০:৫০ অপরাহ্ণ
নাচোলে সাপে কেটে মৃত্যুর পরও দুই ঘণ্টা চলল ওঝার ঝাড়ফুঁক

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে বিষধর সাপে কেটে সুনীল কর্মকার নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। রোববার ভোরে উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের বরেন্দ্রা গ্রামে নিজ ঘরে সাপে কাটলে মারা যান তিনি। স্থানীয়রা জানান, মৃত্যুর পরও প্রায় দুই ঘণ্টা ওঝার কাছে ঝাঁড়ফুক করানো হয়েছে সুনীলকে।

সুনীল কর্মকার বরেন্দ্রা গ্রামের মহাদেব কান্তু কর্মকারের ছেলে। 

স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ জানায়, সুনীল কর্মকার তার বাড়ির নিজ ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় বিষধর সাপে তাকে কামড় দেয়। ঘটনার অনুমান করতে পেরে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে গোদাগাড়ী এলাকাতেই তার মৃত্যু হয়। পরে আর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়নি তাকে। 

সুনীলের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার টগরইল গ্রামে। সেখানে একজন কবিরাজ তার চিকিৎসা করেন । স্থানীয়রা জানান, মৃত্যুর পরও প্রায় দুই ঘণ্টা চলে ঝাড়ফুঁক। কিন্তু কোন ফল না পেয়ে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে সুনীলের পরিবারের এক সদস্যের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলেও কোন মন্তব্য করতে রাজি হন নি তিনি।  

নাচোল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এসএম নুরুল কাদির সৈকত বলেন, সুনীলকে কবিরাজের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সেখান থেকে ফিরিয়ে এনে সৎকার করা হয়। 

নেজামপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সাহাবুদ্দিন বলেন, রাত ৯ টার দিকে সুনীলের সৎকার হয়েছে। যদিও এত দেরি কেন হলো তা আমরা জানিনা। 

নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আব্দুস সামাদ বলেন, নাচোলে সাপে কাটা রোগীর ক্ষেত্রে অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা প্রবণতা অনেক বেশি। সাপে কাটলে বেশিরভাগ রোগীকে আগে নিয়ে যাওয়া হয় কবিরাজ বা ওঝার কাছে। পরে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। আবার কোন রোগীকে হাসপাতালে আগে নিয়ে এসে যদি মৃত্যু হয়, তাকে আবার ওঝার কাছে নিয়ে যায়। এটা নাচোলের কমন চিত্র। যদিও ঝাড়ফুঁক চিকিৎসার কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। 

 

Read more — স্থানীয়
← Home