ডাক্তারদের হাতের লেখা ঠিক করতে বললেন ভারতের আদালত

লাইভ ডেস্ক ১ অক্টোবর ২০২৫, ০৪:৫৮ অপরাহ্ণ
ডাক্তারদের হাতের লেখা ঠিক করতে বললেন ভারতের আদালত

চিকিৎসকদের দেওয়া প্রেসক্রিপশনে হাতের লেখা স্পষ্ট না হওয়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। এ নিয়ে এবার ভারতের পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায় আরও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আদালত বলেছেন, ‘পড়তে পারা যায়–এমন মেডিকেল প্রেসক্রিপশন একটি মৌলিক অধিকার। কারণ এর ফলে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে।’

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, আদালতের এই আদেশটি আসে একটি ভিন্ন মামলার প্রেক্ষিতে, যেখানে বিচারপতি জসগুরপ্রীত সিং পুরি একটি ধর্ষণের মামলার শুনানিতে একজন সরকারি ডাক্তারের রিপোর্টকে ‘বোধগম্য নয়’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি লেখেন, ‘এটি আদালতের বিবেককে নাড়া দিয়েছে, কারণ একটি শব্দ বা অক্ষরও পড়ার মতো নয়।’ 

বিচারপতি পুরি তাঁর আদেশে উদ্বেগ প্রকাশ করে লেখেন, ‘প্রযুক্তি ও কম্পিউটার যখন সহজে পাওয়া যায়, তখন এটা খুবই দুঃখজনক যে, সরকারি ডাক্তাররা এখনও হাতে প্রেসক্রিপশন লিখছেন। এটি হয়তো কিছু রসায়নবিদ ছাড়া আর কেউ পড়তে পারবেন না।’

এ কারণে এবার পাঞ্জাব ও হরিয়ানার আদালত থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়, যাতে সরকার মেডিকেল কলেজের পাঠ্যক্রমে হাতের লেখার ক্লাস অন্তর্ভুক্ত করে। এ ছাড়া দুই বছরের মধ্যে ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন চালু করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি পুরি নির্দেশ দিয়েছেন, এর আগ পর্যন্ত সব ডাক্তারকে অবশ্যই স্পষ্ট করে এবং ‘ক্যাপিটাল লেটারে’ প্রেসক্রিপশন লিখতে হবে।

ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (আইএমএফ) সভাপতি ডা. দিলীপ ভানুশালী বিবিসিকে বলেন, তারা এই সমস্যার সমাধানে সাহায্য করতে প্রস্তুত। তিনি স্বীকার করেন, চিকিৎসকদের হাতের লেখা খারাপ, বিশেষ করে ব্যস্ত সরকারি হাসপাতালগুলোতে। তবে তিনি বলেন, শহরের চিকিৎসকেরা ডিজিটাল প্রেসক্রিপশনে চলে এসেছেন, যদিও গ্রামীণ এলাকায় এখনও সমস্যা রয়ে গেছে।

অতীতেও ভারতের অন্যান্য আদালত ডাক্তারদের খারাপ হাতের লেখা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে; যেমন ওড়িশা হাইকোর্ট এবং ইলাহাবাদ হাইকোর্ট।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডাক্তারদের হাতের লেখার ওপর জোর দেওয়ার কারণ সৌন্দর্য বা সুবিধার জন্য নয়। বরং অস্পষ্ট বা ভুল ব্যাখ্যার সুযোগ রয়েছে এমন প্রেসক্রিপশনের পরিণতি মারাত্মক হতে পারে।

যদিও ভারতে এই বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে প্রেসক্রিপশন ভুল পড়ার কারণে গুরুতর সমস্যা এবং মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ১৯৯৯ সালের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকায় প্রতি বছর আনুমানিক ৪৪ হাজার প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর মধ্যে ৭ হাজারের জন্য দায়ী ছিল খারাপ হাতের লেখা।

এর আগে, ২০১৪ সালে হায়দ্রাবাদ হাইকোর্টে ফার্মাসিস্ট চিলুকুরি পরমাথামার জনস্বার্থ মামলা দায়েরের পর ২০১৬ সালে ভারতের মেডিকেল কাউন্সিল আদেশ দেয় যে প্রতিটি চিকিৎসককে জেনেরিক নামসহ ওষুধ স্পষ্টভাবে এবং বিশেষত ক্যাপিটাল লেটারে প্রেসক্রিপশন করতে হবে।

তবে, প্রায় এক দশক পরেও ফার্মাসিস্টরা বলছেন যে, খারাপভাবে লেখা প্রেসক্রিপশন এখনও তাদের দোকানে আসছে। তবে শহরের তুলনায় মফস্বল ও গ্রামীণ এলাকায় এখনও বেশিরভাগ প্রেসক্রিপশন হাতে লেখা হচ্ছে। 

কলকাতার বিখ্যাত ফার্মেসি ধনবন্তরীর সিইও রবীন্দ্র খান্ডেলওয়াল বিবিসিকে বলেন, তাদের অভিজ্ঞ কর্মীরা বেশিরভাগ প্রেসক্রিপশন পড়তে পারলেও, সঠিক ওষুধ বিতরণের জন্য কখনও কখনও ডাক্তারদের ফোন করতে হয়।

Read more — আন্তর্জাতিক
← Home